মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৭ ডিসেম্বর ২০১৬

বিএমএড কোর্স প্রবর্তনের ইতিহাস

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিএমএড কোর্স প্রবর্তন: সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
 

ড. মোঃ নূরুল্লাহ*

ভূমিকা:  পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। এজন্যে বলা হয়, প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। মাদরাসা শিক্ষার ইতিহাস অনেক পুরোনো। বিশেষভাবে আলীয়া মাদরাসা শিক্ষা ১৭৮০ সাল থেকে এ উপমহাদেশে চলমান। সে শিক্ষা ধারার আলোকে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর থেকেই আলীয়া মাদরাসা শিক্ষা ধারা বিকশিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এ শিক্ষাধারায় বিভিন্ন স্তরে দেড় লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মরত। স্বতন্ত্র এবতেদায়ী যেগুলো এখনও কোনো অনুদান পায় না সেগুলোর শিক্ষক হিসেব করলে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় তিন লাখে উন্নীত হবে। এত প্রাচীন একটি শিক্ষাধারার শিক্ষকগণের অধিকাংশ এখনও প্রশিক্ষণ ধেকে বঞ্চিত। এ ক্ষেত্রে এখনও সীমাবদ্ধতার কমতি নেই। প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী যুগ যুগ ধরে চলে আসলেও তার বাস্তবায়ন খুবই নগণ্য। এখন যতটুকু চলছে তার পেছনেও রয়েছে কতিপয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিরলস প্রচেষ্টা। যাদের ঋণ শোধ করার নয়। হয়তো একদিন তাদের নামও কেউ স্মরণ করবে না। কিন্তু এমনটি না হওয়াই উচিৎ। তাই মাদরাসা শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজনের যে ইতিহাস বাংলাদেশে রচিত হয়েছে তার একটি বিবরণ পাঠকের জন্য তুলে ধরতে এ প্রয়াস।প্রশিক্ষণের দাবী যুগে যুগে : শিক্ষা নিয়ে যারাই কাজ করেন তারা প্রত্যেকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, শিক্ষকের মান উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। অতএব প্রশিক্ষণ ব্যতিত শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর থেকেই বাংলাদেশের আলীয়া মাদরাসা শিক্ষা ধারার শিক্ষকদের জন্য সরকারীভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী বিভিন্ন পর্যায়ে থেকে করে আসছিলো বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। যেসব সংগঠন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করার জন্য সরকারের কাছে দাবী করে আসছিলো তন্মেধ্যে মরহুম মাওলানা আবদুল মান্নান এর নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেসীন, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ, জমিয়তে তালাবা আরাবিয়া, মাদরাসা ছাত্র আন্দোলন পরিষদ ইত্যাদি সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এ দাবীর প্রেক্ষিতে মাদরাসা শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত হতে থাকে বিভিন্ন শিক্ষা কমিশনে। বিশেষভাবে অন্তর্বর্তীকালীন শিক্ষানীতি-১৯৭৯(জাতীয় শিক্ষা উপদেষ্টা পরিষদের সুপারিশ) , বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা(মফিজউদ্দিন) কমিশন রিপোর্ট - ১৯৮৮ , মাদরাসা শিক্ষা (ড. এম এ বারী) সংস্কার কমিটি-১৯৮৯ , জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি, ১৯৯৭ । ড. এম এ বারী শিক্ষা কমিশনের সুপারিশের আলোকে ১৯৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মোদরাসা শিক্ষকদের চাকুরীপূর্ব ও চাকুরীকালীন প্রশিক্ষণ দানের উদ্দেশ্যে “মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট” এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।বিএমএড প্রবর্তনে বিএমটিটিআই : ১৯৯৬ সাল থেকে জুন-২০০১ সাল পর্যন্ত ছিলো এ ইনস্টিটিউটের প্রকল্পের মেয়াদ। প্রকল্পকালে সর্বপ্রথম ১৯৯৯ সালে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সরকারী অর্থে মাদরাসার উপাধ্যক্ষ, মুহাদ্দিস ও প্রভাষকদের জন্য দুইমাস মেয়াদী চাকুরীকালীন স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরম্ভ হয় এবং ৬টি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৩৮১ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রকল্প মেয়াদ শেষে বিএমটিটিআই এর প্রশিক্ষণ আর সচল রাখা সম্ভব হয়নি। বিএমটিটিআই চলার মত একটি টাকাও তখন বরাদ্দ নেই। এমতাবস্থায় সরকার মাউশি এর পরিচালক প্রফেসর মোঃ ইব্রাহীম স্যারকে বিএমটিটিআই এর পরিচালক হিসেবে (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রদান করা হয়। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরই বিএমটিটিআই এ কীভাবে বিএড কোর্সের সমমান কোর্স আরম্ভ করা হবে সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একটি কোর্স কারিকুলাম এর খসড়া তৈরি করার জন্য তিনি প্রফেসর মোঃ গোলাম রসূল মিয়া, জনাব মোঃ তমিয উদ্দিন, জনাব মোঃ নূরুল্লাহ এর সমন্বয়ে একটি সাব কমিটি গঠন করেন। কমিটি প্রশিক্ষণের জন্য একটি সিলেবাসও তৈরি করে এবং বিএড কোর্স চালু করার জন্য শিক্ষা সচিব বরাবর আবেদন পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু তৎকালীন শিক্ষা সচিব জনাব শহীদুল আলম অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে তা নাকচ করেন। কারণ তিনি জানতেন, ফাজিলকে ডিগ্রি সমমান না দেয়া পর্যন্ত ফাজিল পাশদের পক্ষে বিএড ডিগ্রি মানে কোন পোষ্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি প্রদান সম্ভব নয়। এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকা অবস্থায় সরকার বিএমটিটিআই এর মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ চালু ও আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী(নায়েম) এর পরিচালক জনাব মোঃ মাহবুবুর রহমান-কে বিএমটিটিআই এর পরিচালক (অতিঃ দায়িত্ব) প্রদান করে। উল্লেখ্য যে, তখন বিএমটিটিআই এর প্রধানের পদটি পরিচালক হিসেবে ছিলো। পরবর্তীতে তা অধ্যক্ষ করা হয়। জনাব মোঃ মাহবুবুর রহমানকে দায়িত্ব প্রদানের পর তৎকালীন সচিব জনাব শহীদুল আলম বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ডকে প্রশিক্ষণের জন্য বাৎসরিক এককোটি পঁচিশ লাখ টাকা বারাদ্দের জন্য অফিস আদেশ প্রদান করে। জনাব মাহবুবুর রহমান স্যারের সুদক্ষ নেতৃত্বে বিএমটিটিআই অত্যন্ত মুখরিত হয়ে ওঠে। শুরু হয়